2017 at 04:25PM লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
2017 at 04:25PM লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার

‘আমাকে ফেলে চলে গেল মিজু’

 

 

আহম্মেদ ইলিয়াস ভূঁইয়া পরিচালিত ‘মানুষ কেন অমানুষ’ ছবির শুটিং করার জন্য গতকাল রাত ৮টায়  কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা হন মিজু আহমেদ। সামান্য সময়ের জন্য ট্রেনটি ধরতে পারেননি কাজী হায়াৎ। তিনিই প্রথম মৃত্যুর খবরটি পান। এ বিষয়ে কাজী হায়াৎ এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন।

কাজী হায়াৎ বলেন, ‘একই ট্রেনে আমারও দিনাজপুর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি স্টেশনে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি করে ফেলি। ৮টার ট্রেন চলে যায়। আমি তো দাঁড়িয়ে দেখছিলাম ট্রেন চলে যাচ্ছে, তখনই মিজু আমাকে ফোন করে বলে, ‘আমি তো চলে গেলাম, তুমি ট্রেন ফেল করেছ। আমি মন খারাপ করে হেঁটে বাইরে আসি, ড্রাইভারকে ফোন করে বলি আবার স্টেশনে আসতে। ঠিক ৮টা ৫ মিনিটে আমার কাছে মিজুর নাম্বার থেকে ফোন আসে, অন্য কোনো অপরিচিত গলা, আমার কাছে জানতে চায় আমি মিজুর কী হই। আমি তাকে বললাম আমি মিজুর ভাই হই। তখন তিনি আমাকে বলেন যে মিজু স্ট্রোক করেছে, এখন ট্রেন তেজগাঁও পার হচ্ছে। বিমানবন্দর স্টেশনে কেউ কি রিসিভ করতে পারবে? আমি বিষয়টি বুঝতে পেরে উনাকে বললাম যে আমি লোক পাঠাচ্ছি।’

এর পরের ঘটনা নিয়ে কাজী হায়াৎ বলেন, “তারপর আমি সবাইকে ফোন দিচ্ছিলাম, কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। দুবার ওয়েটিংয়ে পাবার পর মিশা সওদাগরকে পাওয়া গেল। তখন আমি তাঁকে বিমানবন্দর স্টেশনে যেতে বললাম। মিশা উত্তরায় ছিল, সে ছুটে গেল। কিছুক্ষণ পর আবার মিশা ফোন করে বলল, ‘ভাই মিজু ভাইকে আমি রিসিভ করেছি, কিন্তু মিজু ভাই তো আর নেই!’ আমি তখনই ছুটে গেলাম, এরই মধ্যে সবার কুর্মিটোলা হাসপাতালে জড়ো হওয়া শুরু হয়েছে।”

মিজু আহমেদের স্মৃতি নিয়ে কাজী হায়াৎ বলেন, “আমি যখন ‘দাঙ্গা’ ছবিটি নির্মাণ করছিলাম তখন মিজুর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়, এর আগে দেখেছি কিন্তু পরিচয় ছিল না। আমি আমার এক বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজনা করছিলাম ছবিটি, আমার বন্ধুই মিজুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আমি তখনই জানতে পারি মিজু শিক্ষিত ছেলে, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছে। তখনই আমি তাকে ছবিতে যুক্ত করি।”

কাজি হায়াৎ যোগ করেন, “এই ছবিতে মিজু খুবই ভালো অভিনয় করে, ছবিতে আমি তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম, কিন্তু ছবি মুক্তি পাওয়ার পর মিজু একেক ছবিতে ৫০ হাজার টাকা নিতে থাকে। তারপর মিজুকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমার প্রায় ৩০টা ছবিতে সে অভিনয় করেছে। তবে আমার মাঝে বেশ কয়েকটি ছবিতে মিজুর কোনো চরিত্র ছিল না। তখন সে আমাকে বলেছিল, ‘পেটের দায়ে তো কিছু কাজ করিই, কিন্তু কিছু কাজ করতে চাই মনের ক্ষুধা মেটাতে চাই। তুমি আমাকে টাকা যেমনই দেও, তোমার ছবিতে কাজ অবশ্যই দেবে। না হলে মনের ক্ষুধা মেটে না।’”

তেজগাঁও স্টেশনে যাওয়ার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন মিজু আহমেদ। পরে তাঁকে বিমানবন্দর স্টেশনে নামানোর পর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মিজু আহমেদকে কুষ্টিয়ার কোটবাড়ীতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শনিবার

কোকাকোলা পানের এক ঘণ্টা পর যা হয়

 

বিখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা। এটা শরীরের জন্য কত ক্ষতিকর তা বোঝাতে কোকাকোলার সাথে পয়সার বিক্রিয়া কিংবা কোকাকোলা গরম করলে কী বিক্রিয়া হয়, তা নিয়ে বহু ভিডিও আমরা প্রায় সবাই দেখেছি। কিন্তু তারপরও কি কোকাকোলা খাওয়া একদিনের জন্য বাদ দিয়েছি আমরা?

মিষ্টি এই পানীয় আসলেই শরীরের ভেতরে কীভাবে কাজ করে তা জানতে বেশ কিছুদিন ধরে গবেষণা করেছেন ফার্মাসিস্ট নিরাজ নায়েক। আর তিনি যা পেয়েছেন সেটা সত্যিই চিন্তিত হওয়ার মতো।

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ডেইলি স্টার অনলাইন জানিয়েছে, কোকাকোলা খাওয়ার এক ঘণ্টা পর এটি শরীরের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা একটি গ্রাফের মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করেছেন নিরাজ। সেখানে দেখা গেছে, প্রথম চুমুক দেওয়ার পর থেকে ৬০ মিনিট পর পর্যন্ত সাতটি ধাপে এই কোমল পানীয় শরীরের মধ্যে বিক্রিয়া করে।

একটি ৩৩০ মিলিলিটারে এক ক্যান কোকাকোলা পানের মাধ্যমে ১০ চা চামচ পরিমাণ চিনি সরাসরি আপনার শরীরে প্রবেশ করে। যা প্রতিদিন গ্রহণযোগ্য চিনির পরিমাণের মাত্রার প্রায় আড়াই গুণ।

এ বিষয়ে নিরাজ তাঁর নিজস্ব ব্লগে লিখেছেন, চিনির মাত্রাটা এতটা বেশি যে এটা সরাসরি গ্রহণ করলে যে কারো বমি পেয়ে যেতে পারে। কিন্তু কোকাকোলার ভেতরে থাকা ফসফরিক এসিড এই অতিরিক্ত মিষ্টি স্বাদকে হালকা করে দেয় ফলে আরামসে পানীয়টি গলধঃকরণ করেন আপনি।

পুষ্টিবিদ ইলা এলার্ড মেট্রো ডেইলি স্টার অনলাইনকে বলেন, ‘কোক সম্পর্কে এই ভয়ঙ্কর তথ্য আপনাকে চমকে দেবে। তবে এসব জানার কারণে উপকার যেটা হয়েছে সেটা হলো এখন থেকে কোকাকোলা পানের আগে সেটা ভেবে আপনি বিরত থাকবেন।’

শরীরের ভেতরে কোকাকোলার প্রতিক্রিয়া নিরাজ দেখিয়েছেন কয়েকটি ধাপে :

প্রথম ১০ মিনিট পরে : ১০ চা চামচ চিনি আপনার শরীরের ভেতরের ব্যবস্থাকে আঘাত করে। এটার অতিরিক্ত মিষ্টতার কারণে আপনি বমিও করে দিতে পারেন। কিন্তু এর রেসিপিতে থাকে ফসফরিক এসিড। আর এটাই অতিরিক্ত মিষ্টতা কমিয়ে দেয় যাতে আপনি এটা পান করতে পারেন।

২০ মিনিট পরে : আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় আর ইনসুলিনের বিস্ফোরণ ঘটে। প্রচুর পরিমাণ চিনি যকৃতের মধ্যে চর্বি তৈরি করে।

৪০ মিনিট পরে : এই সময়ের মধ্যে ক্যাফেইন পুরোপুরি শোষিত হয়ে যায়। আপনার রক্তচাপ বাড়তে থাকে। এতে করে আপনার যকৃত বা লিভারে আরো চিনি ঢুকে পড়ে।

৪৫ মিনিট পর : এই সময় আপনার শরীরের ডোপামিন উৎপাদন বেড়ে যায় এবং আপনার মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগায়। মাদক হেরোইন যেভাবে কাজ করে ঠিক সেভাবেই এটা আপনার ওপর কাজ করে।

৬০ মিনিট পর : আপনার শরীরের অন্ত্রের নিচের দিকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়া ও জিংকের সাথে বিক্রিয়া করে ফসফরিক এসিড। যা বিপাককে হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেয়। উচ্চমাত্রার চিনি ও কৃত্রিম চিনির কারণে রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্যালসিয়াম দেহ থেকে বের হয়ে যায়।

এই সময়ের পরে ক্যাফেইনের মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্য কাজ করতে শুরু করে। এর মানে এই সময় আপনার প্রসাবের বেগ আসে। অর্থাৎ এবার প্রসাবের মাধ্যমে আপনার শরীর ও হাড় থেকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, সোডিয়াম, ইলেকট্রোলাইট ও পানি বের হয়ে আসবে।

এ সময় আপনি খিটখিটে হয়ে যেতে পারেন। কারণ কোকের সঙ্গে আপনি যেটুকু পানি গ্রহণ করেছিলেন সেটুকুও আপনার শরীর থেকে বের হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ডেইলি স্টার অনলাইন কোকাকোলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের এক মুখপাত্র বলেন, ‘১২৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ আনন্দের সাথে কোকাকোলা পান করে আসছে। অন্য সব কোমল পানীয়র মতো এটাও পানের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সুষম খাদ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত।’