May 10 লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
May 10 লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার

এই দুবছর ধরে মাঝে মাঝেই আমার বাবা ও শ্বশুড়ি গোপনে এই কাজ করেন….

 

 

মুর্শিদাবাদের এক প্রত্যন্ত গ্রামে আমরা থাকি, বিয়ের আগে আমি আর আমার আব্বা থাকতাম। মা মারা গেছেন বছর দশ আগে, নিকট আত্মীয়ও তেমন কেউ নেই। আমি college life থেকেই একটি মেয়েকে ভালবাসি। মেয়েটি হিন্দু ।সেও আমাকে খুব ভালোবাসে। মেয়েটি ওর কাকার (চাচার) বাড়িতে মানুষ, বাবা নেই। ওর মা আর কাকার family আছে। ওর কাকা যেন ওদের বিদায় করতে পারলেই বেচে যায়। আমি ওকে বিয়ের প্রস্তাব দিই। ওদের family রাজি হয়ে যায়। আমি মুসলিম হলেও বাধা দেয়নি। যেহেতু ওর আর ওর মায়ের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই সেহেতু বিয়ের পর ওর মাও আমাদের সাথেই থাকবেন বলে কথা হয়। সবকিছুই ঠিকঠাক কিন্তু বাধ সাধেন আমার আব্বা। তাকে কিছুতেই রাজি করাতে পারছিলাম না । অনেক চেস্টার পর একদিন আব্বা ওদের আমাদের বাড়িতে ডেকে পাঠায়। সবার মাঝে বিয়ে নিয়ে কথা হচ্ছিল। কিন্তু আব্বাকে কিছুতেই রাজি করানো যাচ্ছিলনা। এরপর আমার আব্বা আর ওর মা আলাদা ঘরে বেশ কিছুক্ষন কথা বলে। কি কথা হয়েছিল জানিনা কিন্তু তারপর থেকেই আব্বা রাজি।

 

 

 

বিয়ে হয় আমাদের registry করেই। অনুষ্ঠান কিছুই হয়নি। বিধর্মী বিয়ে বলে পাড়ার কেউ আসেনি। বিয়ের পর ওর আম্মাও আমাদের সাথে চলে আসে। রাতে ওর আম্মা এক রুমে ঘুমাতে যায়। আর আমার আব্বা ঘুমায় আমাদের পাশের রুমে।বিয়ের রাতেই আমাদের প্রথম মিলন হয়। মিলিত হবার পর আমি ওকে ধরে শুয়ে আছি। প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।ও আমাকে জাগিয়ে বলে পাশের ঘরে কারা যেন কথা বলছে। আমি প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও পরে একজন পুরুষ আর মহিলার কন্ঠের আওয়াজ শুনতে পাই।খেয়াল করে দেখি আব্বা আর ওর মার খুব আস্তে আর সতর্ক গলায় ফিসফিস করে কথা বলছে। দুজনেই জানলার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখি আমার আব্বা আর ওর মা sex করছে। আমাদের দুজনেরই তখন সে কি অবস্থা। আমরা লজ্জায় একথা কাউকে বলতে পারছি না। উনাদের ও কিছু বলতে পারিনি। এই দুবছর ধরে মাঝে মাঝেই ওনারা এই কাজ করেন। ওর মা অন্য কোথাও যায়নি। এখানেই থাকেন। এখন আমার wife এর সন্তান হবে। এদিকে আমার স্ত্রীর মাও গর্ভবতী। কি করবো বুঝতে পারছি না। আমরা দুজনেই কি আত্মহত্যা করবো? কিছু একটা উপায় বলুন দাদা, নইলে আমাকে আমার স্ত্রীকে আর ওর গর্ভের সন্তানকে মরতেই হবে।

 

 

উত্তরঃ নিয়মিত পাঠকদের কাছে প্রশ্ন কর্তার করা প্রশ্নের যদি কোন উত্তর থাকে তবে প্রশ্নকারীকে দিয়ে সাহায্য করবেন।ধন্যবাদ

 

 

স্বামীর বড় বোনের ছেলে আমার সমবয়সী, আমরা সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছি এবং মাঝে মাঝে…

 

 

স্বামীর বড় বোনের ছেলে আমার সমবয়সী, আমরা সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছি এই রকম শিরোনামে একজন আমাদের ফেসবুক পেজে ম্যাসেজে করে।

 

কীভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না। আমার বয়স ১৯। একটা প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয়ে ফাস্ট ইয়ারে বিবিএ পড়ি। আমার বিএফ ছিল কলেজে পড়ার সময়। আমাদের ১ বছর সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আমাদের মধ্যে ব্রেকআপ হয়ে যায়।

 

আমার বিয়ে হয়েছে ১০ মাস। আমার হাসবেন্ড দেশের বাইরে থাকে। বিয়ের ১ মাস পরেই চলে যায়। আমাদের বয়সের পার্থক্য একটু বেশী। ওর বয়স ৩৯। আমার হাসবেন্ড আমাকে সময় দেয় না ঠিকমত। কাজে অনেক ব্যস্ত থাকে। আমি শ্বশুর বাড়ীতে থাকি। বাসাতে শ্বশুর, শাশুড়ি, আমার ভাসুর তার ফ্যামিলি থাকে। আর থাকে আমার হাসবেন্ডের বড় বোনের ছেলে রোহান (ছদ্মনাম)। জমজমাট বাসা। হাসবেন্ডের বড় বোনের ছেলে রোহান আর আমি সমবয়সী, ও অন্য একটা প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয়ে ফাস্ট ইয়ারে বিবিএ পড়ে। ওর বাবা মা ঢাকার বাইরে থাকে, তাই ও নানাবাড়ি থেকে পড়ে।

 

সম্পর্কে আমি আমার হাসবেন্ডের বড় বোনের ছেলে রোহানের মামী। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা ভাল বন্ধুত্ব হয়। যদিও সবার সামনে রোহান আমাকে মামী আর আপনি করে বলে। কিন্তু একা থাকলে আমরা বন্ধুর মত থাকি। হাসবেন্ডের ফ্যামিলি অনেক কনজারভেটিভ, বাইরে যেতে পারতাম না বেশী। তাই ছাদে ঘুরতাম, রোহানও ছাদে যেত। অনেস্টলি বলতে ওর সাথে একটা সুন্দর সময় পার করি। আমরা একা থাকলে ও মাঝে মাঝে দুষ্টামি করত। যেমন আমার চুলের বেণি খুলে দিত, হাত ধরত। আমি ফান হিসেবে দেখতাম। আমিও একা থাকতাম তাই ওর দুষ্টুমিটা ভালই লাগত। আমরা একদিন ছাদে লুকিয়ে সিগারেটও খেয়েছি। আমাকে একদিন ড্রিঙ্ক করাবে বলে।

একদিন একটা আত্মীয় মারা যাবার খবর আসলে বাসার সবাই ঐখানে চলে যায়। বাসায় শুধু আমি, রোহান আর কাজের মেয়েটা ছিল। রোহান ওইদিন আমার রুমে আসে আর আমরা অনেক গল্প করি। কিছুক্ষণ পর ও রুম থেকে চলে যায়। রাতে ও আবার ফিরে আসে একটা টাকিলা আর ভদকার বোতল নিয়ে। এসে বলে আজ তোমাকে ড্রিঙ্ক করাবো। আমি প্রথমে রাজি ছিলাম না, পরে ওর জোরাজুরিতে রাজি হই। আমি আগেও ড্রিঙ্ক করেছি, তবে ওইদিন একটু বেশী করলাম। রোহান পুরা বোতল শেষ করল।

দুজনেরই অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। রোহান হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে ধরে। আমি ওকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে আমি তোমার মামী, এগুলা করা ঠিক না। রোহান বলে আমি কিছু বুঝি না।

সেদিন আমাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। আমি জানি এটা ঠিক হয়নি। আমরা দুজনেই পরে ভুল বুঝতে পারি। আমার নিজের কাছে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে।

 

আমাকে একটু পরামর্শ দিবেন, আমি এখন কী করবো? আমি কি আমার হাসবান্ডকে সব খুলে বলবো ?
আমার কী করা উচিৎ?
উত্তরঃ আপু, তোমার চিঠি পড়ে আমার রাগ করা উচিত। কিন্তু আমি রাগ করতে পারছি না মোটেও। কারণ তোমার জীবনের এই ঘটনার জন্য শুধু তুমি নও, আরও অনেক গুলো মানুষ দায়ী। তোমার পরিবার, তোমার স্বামী, শ্বশুরবাড়ি এবং ওই ছেলেটা- সবাই দায়ী। কারো দোষ কম নয়। আমি জানি এই চিঠি পড়ে অনেকেই তোমাকে বাজে কথা বলবে। কিন্তু আমি ১০০ ভাগ দোষ তোমাকে দিতে পারছি না।

 

যে বয়সে তোমার ভার্সিটি যাওয়ার কথা, হেসে খেলে বান্ধবীদের সাথে সময় কাটাবার কথা, প্রেম করার কথা- সেই বয়সে পরিবার তোমাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। তাও একজন ৩৯ বছর বয়স্ক লোকের সাথে। চিন্তা করা যায়! তারপর যদি স্বামী কাছে থাকতেন, তাহলে একটা কথা ছিল। তিনি থাকেন বিদেশে। শ্বশুরবাড়ির এত শাসন যে নিঃশ্বাস নেয়া যায় না। এমন অবস্থায় ১৯ বছরের একটি মেয়ে ভুল করতেই পারে আপু। এটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ তোমার বয়সটাই এখন অস্থির, সংসারের জোয়াল ঘাড়ে নেয়ার বয়স না। তুমিও নিজেও ভুল করেছ। ব্রেকাপ হয়ে গিয়েছে বলে হুট করে বিয়েতে মত দিয়ে দিয়েছ।

 

তবে একটা জিনিস কি আপু,  আপনার হাসবেন্ডের বড় বোনের ছেলে রোহান ছেলেটিও ভালো না। সেও কিন্তু সুবিধাবাদী। সে ওইদিন তোমাকে মদ খাইয়েছিল এই কাজটি করার জন্যই। তাই ওই ছেলেটির প্রেমে পড়ে গেলে বা ওই ছেলেটির সাথে ঘনিষ্ঠ হলে তোমার জন্য কিন্তু একেবারেই ভালো হবে না।

 

তুমি এখন যা করতে পারো, সেটা হচ্ছে স্বামীর সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করো। এই মধ্য বয়স্ক লোকটিকে তুমি ভালবাসো না, ভালবাসলে প্রতারণা করতে পারতে না। তাছাড়া আমার মনে হয় না এমন দূরত্বের সম্পর্কে তুমি সুখী থাকবে। তাছাড়া এখন লোকটার সাথে সম্পর্ক রাখার অর্থ হবে তাঁকে ঠকানো। তুমি প্রথমে বাবার বাড়ি চলে যাও। সেখানে গিয়ে স্বামীকে সবই খুলে বলতে পারো যে রোহানের সাথে তোমার কী হয়েছে। সাথে এটাও বলো যে তুমি আর সংসার করতে চাইছো না।

 

 

এটা খুবই সম্ভব যে স্বামী সব শুনে তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবেন। সেক্ষেত্রে তুমি মুক্ত। লেখাপড়া করো মন দিয়ে। নতুন করে জীবন শুরু করো। স্বামী তালাক দিলে পরিবারও আর জোর করে ওই সংসারে তোমাকে ফেরত দিতে পারবে না। আর স্বামী যদি সব জেনেও তোমাকে মেনে নেন, তাহলে বুঝবে তিনি আসলেই তোমাকে ভালোবাসেন। সেক্ষেত্রে স্বামীর সাথে সম্পর্ক জোড়া দেয়ার একটা চেষ্টা করতে পারো। তবে এই শর্তে যে তোমরা দুজন একই স্থাণে থাকবে। কাছাকাছি থাকলে এই সমস্ত সমস্যা মিটে যাবে।

 

 

খুব ছোটবেলাতেই দেখতে পাই বাবার সাথে কাজের বুয়ার….

 

আমি আমার ফ্যামিলির একমাত্র ছেলে। বাড়ি কুষ্টিয়াতে। বাবা এখানেই একটা ব্যবসা করেন আর মা একটা সরকারী ব্যাঙ্কের সিনিয়ার অফিসার। তাদের সেপারেশন হয়ে গেছে। আমি যখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি তখন টের পাই আমাদের কাজের বুয়ার সাথে আমার বাবার অবৈধ শারিরীক সম্পর্ক আছে। বুঝতেই পারছেন ওটা আমার ইমোশনালি কিরকম হিট করেছিল। আর মোটা বলে স্কুলেও বুলিড হতাম ক্লাসমেট আর টিচারদের দ্বারা। উল্লেখ্য যে স্কুলটা কুষ্টিয়ার সেরা প্রাইভেট স্কুলগুলোর একটা।

 

যাই হোক ক্লাস ফাইভের শেষের দিকে আম্মু বুঝতে পারে যে আমি আমি বাবার ওই অবৈধ সম্পর্কের কথা জানি। তাই এর প্রভাব যেন আমার উপর না পড়ে সেই জন্য আমাকে হোস্টেলে পাঠিয়ে দেয় কুমিল্লাতে। আর ক্লাস থ্রী থেকেই আমার রেজাল্ট ক্রমাগত খারাপ হওয়া শুরু করে ফার্স্ট বয় থেকে কোন রকমে পাস করা স্টুডেন্টে ট্রান্সফর্মড হয়ে যাই। সেখানেও বুলিড হতাম ভিন্ন উচ্চারণ আর মোটা হওয়ার জন্য। আর রেজাল্ট ক্লাস সিক্সে জঘন্য রকমের খারাপ হয়। রিতীমত সেভেনে প্রমোশন নিয়ে টানাটানি। যাই হোক আমাদের তৎকালীন ক্লাসটীচার আর হাউজমাস্টারের জন্য প্রমোশন হয়। রেজাল্ট মোটামুটি করতে থাকি আগের বছরের তুলনাতে। সাথে স্কুলের বাস্কেটবল টীমে আমাকে নেয় নিখুঁত স্কোরার হিসেবে। ক্লাস সেভেনের ফাইনাল পরীক্ষার পরে ছুটিতে যাওয়ার সময় আম্মু আমাকে জানায় তাদের সেপারেশন হয়ে গেছে। এরপর থেকে আমি আম্মুর সাথেই থাকি। এই সেপারেশনের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে আমি বাস্কেটবলটাকে আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরি। গল্পের বই আর মিউজিক প্লেয়ার হোস্টেলে ব্যান্ড আইটেমের লিস্টে ছিল। সেটা আরেকটা কারণ । সেটাও ছাড়তে হয় একটা ইনজুরির জন্য।

 

এরপরের গল্প ছোট। রেজাল্ট কোনমতে পাশ করে যাচ্ছিলাম। এসএসসির টেস্ট পরীক্ষাতে এক সাবজেক্টে ফেল করার জন্য ইয়ার ড্রপ আসে একটা। তারপরের বছর পরীক্ষা দিয়ে এ প্লাস পাই। ঢাকার একটা নামকরা কলেজেও ভর্তি হই। কিন্তু ততদিনে আমার ভেতরে পুরানো মানসিক ট্রমাগুলা পাকাপোক্ত ভাবে বিষণ্ণতাকে ঢুকিয়ে দিয়েছে। ফলাফল কলেজ ড্রপআউট। এখন ডিপ্লোমা করছি কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইন্সটিউটে। সেখানেও রেজাল্ট খুব একটা সুবিধার না। বাবা আমাদের কোন খবর রাখেননা বা কোন দায়িত্ব পালন করেননা। যেহেতু কোন বড়ভাই বা বোন নেই মেন্টাল সাপোর্টের জন্য সেদিক দিয়েও আমি ভালনারেবল। আমার ফ্রেন্ড বলতেও আদতে কিছু নেই। যা আছে তাকে অ্যাকুইন্টেন্স বলা যায় খুব বেশি হলে। আত্মীয় স্বজনরা বা কাজিনরা একটু করুণার দৃষ্টিতে তাকায় আর সবসময় ড্রপআউটের জন্য কথা শোনায় দেখে ওদের সাথেও যোগাযোগ রাখিনা। আম্মুর সাথেও আমি খুব একটা ফ্রি না।

 

বাবার সাথে অ্যাজ আটবছর হল আমার কোন যোগাযোগ নেই। মাঝে গাঁজা ধরেছিলাম। এখন প্রায় দেড় বছর আমি এদিক থেকে পরিষ্কার। নেশা বলতে সিগারেট। তাও ওইটা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনছি। মাঝে মাঝে মনে হয় সুইসাইড করি। আবার ভাবি মানুষ তাহলে বলবে ছেলেটা কাপুরুষ ছিল। যে কয়টা রিলেশন হয়েছিল এ পর্যন্ত সেগুলাও টেকেনি। এমন না যে ব্রেকআপের মাঝে তিক্ততা ছিল। এখনো সবার সাথেই যোগাযোগ আছে। আপু সম্পূর্ণ একলা হাঁটছি জীবনের পথে। আগে হালকা লেখালেখি, আবৃত্তি বা বিতর্ক করতাম। এখন সেগুলোতেও কোন উৎসাহ পাইনা যেমন পাইনা বই পড়া বা গান শোনাতে। আস্তে আস্তে জীবনের মায়াও নাই হয়ে যাচ্ছে। এখন আমার কী করা উচিত? সাইকোলজিস্টের কাছে কাউন্সেলিং নিচ্ছি তিন বছর। কিন্তু অবস্থা দিনদিন আরো খারাপ হচ্ছে। আর আমার কোন ধর্মের প্রতি কোনরকম বিশ্বাস নেই।”

 

পরামর্শ:
ভাইয়া, আপনি যে এত স্পষ্ট করে গুছিয়ে চিঠিটা লিখেছেন, তাতে কিন্তু মোটেও মনে হচ্ছে না যে আপনার মানসিক অবস্থা এলোমেলো। বরং বোঝা যাচ্ছে যে আপনি খুবই শক্ত মনের একজন মানুষ। আপনি দুঃখী। ভীষণ দুঃখী। কষ্ট পেতে পেতে মাঝে মাঝে আমরা এমন একটা অবস্থায় চলে আসি, যখন আর কষ্টটা অনুভব করে পারি না। তার বদলে আক্রান্ত হই ভয়াবহ রকমের বিষণ্ণতায়। এক পর্যায়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই আমাদের মাঝ থেকে চলে যায়। আমার মনে হয় আপনার সাথেও তাই ঘটেছে। কীভাবে বুঝতে পারছি জানেন? কারণ আমার সাথেও ঠিক তাই ঘটেছিল।

 

 

আপনার কাউন্সিলিং-এ আপনার উপকার হচ্ছে না, কারণ আপনার এমন একজন বন্ধু দরকার বা এমন একজনের পরামর্শ দরকার যে আপনার অবস্থাটা বুঝবে। যাই হোক, আমি নিজের কিছু কথা বলি, হয়তো আপনার উপকারে লাগবে। আপনার স্কুল জীবনের কাহিনীর সাথে আমার কাহিনীর ভীষণ মিল। আমি ছোটবেলা থেকে খুব মোটা ছিলাম এবং মারাত্মক ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম। যত বড় হতে থাকলাম, এই ওজনের জন্য চুপচাপ স্বভাবের জন্য বুলিং এর মাত্রা ক্রমশ বাড়তে শুরু করলো। এক পর্যায়ে অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে আমি স্কুলে নাম করে বাসা থেকে বের হয়ে স্কুলে যেতাম না, স্কুলের আশেপাশে কোথাও বসে থাকতাম। স্কুলে যাওয়ার কথা চিন্তা করলেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যেতাম। এক পর্যায়ে আগের তুলনায় ফলাফল খারাপ হওয়া শুরু করলো। বাসায় বিষয়টি নিয়ে খুব শাসন করতো, ফলে আমার আত্মবিশ্বাস একেবারে কমে গেলো।

 

আপনার বাবার যেমন চরিত্রের সমস্যা ছিল আর আপনি এটা নিয়ে খুব আঘাত পেয়েছেন, আমার বাবার সমস্যা এই যে তিনি খুবই রাগী ছিলেন। এত রাগী যে বাবাকে দেখলে আওয়াজ বন্ধ হয়ে যেত। আমার কোন বন্ধু বান্ধবী ছিল না, কারণ বাবা কারো সাথে মিশতে দিত না। অসংখ্যবার বাবার হাতে মার খেয়েছি। একা একা বড় হতে গিয়ে মনোজগৎ একেবারেই এলোমেলো হয়ে গেছে। আর এই সমস্ত কিছুর ফলাফল পড়েছে শিক্ষা জীবনে, সম্পর্কে, ক্যারিয়ারে… সত্যি বলতে কী, এখনো পড়ছে। এখনো দেখা যায় যে অনেক অনেক কিছুর সাথেই আমি সহজ হতে পারি না, অনেক কিছু মেনে নিতে পারি না। আমার কোন কাউন্সিলারের কাছে যাওয়ারও সুযোগ ছিল না আপনার মত বয়সে।

 

যাই হোক, এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই সমস্যা থেকে বের হওয়া যায় কীভাবে? উত্তর হিসাবে আমি সেটাই বলছি, যেটা আমি নিজে করেছিলাম। এভাবে জীবনে একের পর এক পরাজিত হতে হতে, একের পর কষ্ট পেতে পেতে আমি একসময় ফেডআপ হয়ে গেলাম। এবং ঠিক করলাম যে আমি এমন একটা কিছু করবোই, যেটা করলে সবাই আমার প্রশংসা করবে। মানুন আর নাই মানুন, প্রশংসা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। আমি বেছে নিলাম এমন একটি বিষয়, যেটা আমি খুব ভালো পারি। লেখালিখি। মনে প্রাণে লেখালিখিকেই আঁকড়ে ধরলাম। এবং দেখলাম যে হ্যাঁ, আসলেই আমি পারি। খুব সহজেই সাফল্য ছিনিয়ে নিয়ে এলাম।

 

কাজ বন্ধু হয়ে গেলে আসলে আর বন্ধুর প্রয়োজন থাকে না। তারপরও জীবনের জন্য বন্ধু প্রয়োজন। বন্ধুত্ব করতে গিয়ে বারবার আমি প্রতারিত হয়েছি। তবুও ঠিক করলাম যে কিছু বন্ধু আমি তৈরি করবোই। এবং বেছে বেছে আমি তাঁদের সাথেই বন্ধুত্ব করেছি আজীবন, যারা আমারও মতই নিঃসঙ্গ ও যাদের আমার মতই কাউকে প্রয়োজন ছিল। দুজন নিঃসঙ্গ মানুষ একসাথে হয়ে গেলে কিন্তু কেউ আর নিঃসঙ্গ থাকে না। তবে হ্যাঁ, আমার বন্ধ্র সংখ্যা এখনোই ভীষণ সীমিত। ক্ষমতায় কুলাকে সকলেরই উপকার করার চেষ্টা করি, বিনিওয়ে কিচ্ছু আশা করি না। কারণ আমি জেনে গিয়েছি যে জীবনটা একলা থাকারই নাম। এটা নিয়ে আপনিও তাই মন খারাপ করবেন না।

 

বুঝতে পারছি আম্মুর সাথে আপনি ফ্রি নন। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন যে আপনি না থাকলে আম্মুর কী হবে? এই নারীর জীবন কেটেছে বীভৎস কিছু সত্যকে সঙ্গী করে। তবুও তিনি সয়ে গিয়ে বেঁচে আছেন আপনার দিকে তাকিয়ে, যেন আপনার জীবনটা সুন্দর হয়। এখন কি ভাই, আপনার কর্তব্য এই না যে মায়ের জন্য কিছু করা? মায়ের শেষ জীবনটা যেন সুখী কাটে, এই চেষ্টা করা তো আপনারই দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন না করে চলে গেলে হবে?

 

দেখুন ভাই, মরে যাওয়াড় ইচ্ছা কষ্ট পেলে সবার হয়। কিন্তু মৃত্যু যে কী ভয়ংকর, সেটার অনুভব কেবল জানেন তিল তিল করে কষ্ট ভুগে মরে যাওয়া মানুষেরা। বেঁচে থাকার জন্য বাহানার কোন অভাব নেই ভাই। মন ভরে প্রিয় একটা খাবার খাওয়ার পরও কি ভালো লাগে না? আমার তো লাগে। সূর্য ডোবার মিষ্টি দৃশ্য দেখেও কি মন ভালো হয় না? আমার কিন্তু হয়। কারণ জীবন মানে এইসব ছোট্ট প্রাপ্তি থেকেই সুখ খুঁজে নেয়া। খেয়ে পরে বেঁচে থাকা, একজন ভালোবাসা মানুষ খুঁজে পাওয়া… আপনিও পাবেন, পুরো জীবন তো এখনো পড়েই আছে। জীবনের রাস্তাটা সব সময় খোলা। কী হয় দেখার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসাবে বেঁচে থাকতে পারেন। জীবন ভালো লাগছে না, চাইলে মরেও যেতে পারেন। কিন্তু মৃত্যুর রাস্তাটা কিন্তু একমুখী। মৃত্যুর পর কী হয়, আমরা কেউ জানি না। কিন্তু মৃত্যু পর ভালো না লাগলে কিন্ত ফিরে আসার কোন উপায় নেই।

 

তারচাইতে বেঁচে থাকার একটা চেষ্টা করাই কি ভালো না ভাই?

 

 

মঙ্গলবার

নারীদের যৌনাঙ্গ সুন্দর রাখার উপায় কি?

 

 

“মেনোপজ” অর্থাৎ নারীদের মাসিক ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যাওয়া। পিরিয়ডকে নারীদেহে যৌবনের লক্ষণ হিসাবেই ধরে নেয়া যায় এবং সেই হিসাবে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ নারী দেহের বার্ধক্য। বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। পিরিয়ড (Period ) বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে নারী এখন আর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম নন, কিন্তু ব্যাপারটি আসলে বার্ধক্যও নয়।

 

মেনপোজের পর নারীদেহে কিছু পরিবর্তন আসে, বেশ একটা লম্বা সময় ধরে কিছু শারীরিক সমস্যার মাঝ দিয়ে অতিক্রম করতে হয়। ফলে অধিকাংশ নারীর ধারণা হয় যে ফুরিয়ে গেছে তাঁর যৌন জীবনে, এখন আর তিনি যৌনতার স্বাদ নিতে পারবেন না কিংবা অরগাজম অনুভব করতে পারবেন না। সঙ্গীর চোখে আকর্ষণ ফুরিয়ে গেছেন বা তিনি দেখতে খারাপ হয়ে গেছে এমন ধারণাও দেখা যায় অনেকের মাঝেই। চলুন, জেনে নিই এমনই কিছু ভুল ধারণার প্রকৃত সত্য।

 

১) ভুল ধারণা- “যৌনাঙ্গ কুঁচকে যায় ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়”

প্রায় সব নারীরই এটা মনে হয় যে মেনপোজ হবার সাথে সাথেই তাঁর যৌনাঙ্গ  (যোনি – Vagina ) কুঁচকে যাবে, যোনিতে বয়সের ছাপ এসে পড়বে। ফলে তাঁরা আর যৌন মিলনে উৎসাহী হয়ে ওঠেন না। তবে প্রকৃত সত্য এটাই যে মেনোপজ হবার সাথে সাথেই আপনার যোনিতে কোন পরিবর্তন হয় না। বরং পরিবর্তনতা আসে আস্তে আস্তে। এসময়ে যোনিতে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়, ফলে আস্তে আস্তে যোনি / যৌনাঙ্গ হারাতে থাকে তাঁর সৌন্দর্য ও চামড়ায় চলে আসে ঢিলে ভাব। আর এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কী? নিয়মিত যৌন মিলন! হ্যাঁ, যদি নিজের যৌনাঙ্গ সুন্দর ও আগের মতই রাখতে চান, তাহলে যৌন মিলনকে না বলবেন না।এতে যোনিতে রক্ত প্রবাহ বাড়ে ও যোনির তারুণ্য-সৌন্দর্য অটুট থাকে।
(পরামর্শ দিয়েছেন- Hope Ricciotti, gynecologist)

 

 

২) “ভুল ধারণা”- মেনপোজের যৌনতা কষ্টকর

মেনোপজে যৌনতা কষ্টকর বা আপনি খুব ব্যথা পাবেন, এটিও ভ্রান্ত ধারণা। এই ধারণা তৈরি হয় যোনির শুষ্কতায়। মেনোপজের পর যা হতে পারে সেটা হলো আপনার যোনি / যৌনাঙ্গ শুকিয়ে যায় বা পর্যাপ্ত তরল উপস্থিত হয় না যৌন মিলনকে সহজ করার জন্য। যদিও আপনি হয়তো শারীরিক উত্তেজনা অনুভব করছেন। তবেঁ এই ব্যাপারটি সমাধান আছে, যৌনাঙ্গে ব্যবহার করতে হবে লুব্রিকেনট (Lubricant)। যৌন মিলনকে সহজ ও আনন্দময় করতে অনেকেই এটা ব্যবহার করেন। জেল বেসড লুব্রিকেনটের বদলে ওয়াটার বেসড ব্যবহার করা ভালো। স্বাভাবিক যৌন জীবনকেও এই জিনিসটি আনন্দময় করে তুলতে পারে।

 

 

 

মেয়েদের সাথে কথা বললেই আমার যৌনরস বের হয়, এখন কী করব?

 

 

মেয়েদের সাথে কথা বললেই আমার যৌনরস বের হয়, কী করব? আমি বুঝতে পারছি না এটা কি কোনো স্বাভাবিক লক্ষণ নাকি অসুস্থতা? আমি জানতে চাই।

 

কামরস/যৌনরস
কামরস হচ্ছে প্রাক-চরমানন্দ তরল। এটি স্বচ্ছ পানির রঙের আঠালো তরল, যা যৌনচিন্তা/লিঙ্গত্থানের পর পুরুষাঙ্গ থেকে নিঃস্বরিত হয়। কামরসকে ইংরেজীতে প্রি-কাম ফ্লুইড বলা হয়। কামরস এবং বীর্য প্রায় একই প্রকার তরল। এতে শুধু কিছু রাসায়নিক পার্থক্য আছে। এই তরলের পরিমান ব্যক্তিভেদে পার্থক্য হয়। অনেক পুরুষের এটি বিন্দুমাত্রও নির্গত হয়না আবার অনেকের তা ৫ মিঃলিঃ পর্যন্ত হতে পারে।

 

আপনি যেটা নির্দেশ করেছেন এটা বীর্য নয়, পিচ্ছল একপ্রকার পদার্থ যাকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন নামে অভিহিত করে থাকেন। যাই হোক, আপনি দেখবেন যখন আপনরা পেনিস অনেকক্ষণ উত্তেজিত অবস্থায় থাকে তখন এটা বের হয়ে থাকে। এটা পুরুষের একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু যদি মেয়েদের সাথে কথা বললেই একরকম হয় অথবা এটা ঘন ঘন বা বেশি পরিমাণে হতে থাকে তাহলে বিষয়টা কিছুটা রোগের দিকে ইঙ্গিত করে। এক্ষেত্রে আপনি কোনো ডাক্তারের(Doctor Treatement) শরণাপন্ন হতে পারেন।

 

 

 

আমার প্রেমিক আমার ছোটভাইয়ের চেয়েও ছোট, কিন্তু আমি ওকে ছেড়ে থাকতে পারব না…

 

 

আমার প্রেমিক আমার থেকে বয়সে ছোট। আমার একটি ছোটভাই আছে যে আমার থেকে ১৪ মাসের ছোট। আমার প্রেমিক আমার ছোটভাইয়ের থেকেও একমাসের ছোট। তাই আমার পরিবার আমাদের সম্পর্কটা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। কিন্ত ওকে ছেড়ে আমি থাকতে পারবো না। এদিকে আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছে। এখন আমি কী করব? সমাধান চাই।
দেখুন আপু, ৮ বছর পর্যন্ত যেহেতু সম্পর্কটি টিকে আছে, ধরে নেয়াই যায় যে আপনাদের সম্পর্কটি সফল। এবং সত্যি বলতে কি, বয়সে ১৫ মাসের ছোট হওয়া এমন কোন আহামরি বিষয় নয়। প্রেমিক হয়তো আপনার ছোট ভাইয়ের চাইতে ছোট, তবে সেটা মাত্র ১ মাসের। আমার মনে হয় এই ব্যাপারটিকে এত গুরুত্ব না দিয়ে নিজেরাই বাসায় পরিষ্কার করে বলে দিন। যেহেতু প্রেমিক সম্পর্ক খালাতো ভাই, তাই হয়তো পরিবার মেনে নেবে। আবার হিতে বিপরীতও হতে পারে। হয়তো খালাতো ভাই বলেই পরিবার মানতে চাইবে না।

 

সেক্ষেত্রে আপু, আমার মনে হয় আপনারা দুজনেই ম্যাচিউর, নিজেরাই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন। যেহেতু দুজনে আত্মীয়, তাই নিজেরা বিয়ে করলে দুই পরিবারের কেউই বেশিক্ষণ রাগ ধরে রাখতে পারবে না। একসময় মেনে নেবেই। চিন্তা করবেন না, ১৫ মাস খুব বড় ব্যবধান না।

পরামর্শ দিয়েছেন-
রুমানা বৈশাখী