বৃহস্পতিবার

বিশ্বের ৪০ দেশে নিষিদ্ধ যে সিনেমা


বিশ্বের ৪০ দেশে নিষিদ্ধ যে সিনেমা

বিশ্বের ৪০ দেশে নিষিদ্ধ যে সিনেমা – ক্যানিবল হলোকাস্ট সিনেমাটি ১৯৮০ সালে ইতালিতে নির্মিত হয়। পরিচালক ছিলেন রুজিরো দাওদাতো।
সিনেমার গাড়ি আকাশেও চড়ে। সিনেমার পর্দায় এমন অসম্ভব দৃশ্য দেখানো হয়, যা দেখে দর্শক মনের অজান্তেই বলে ফেলে এ-ও কি সম্ভব! তবে হ্যাঁ, ব্যাপক অসঙ্গতি, উদ্ভট উপস্থাপনা, ও আপত্তিকর দৃশ্যের কারণে বিশ্বের নানা দেশের সেন্সর বোর্ডে চলচ্চিত্র আটকে যাওয়ার ঘটনা অহরহই ঘটে থাকে।
এসব কারণে এক দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশেও সিনেমাটি প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ফলে বহু বড় বাজেটের আলোচিত সিনেমাগুলো ব্যবসায়িকভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে। সিনেমা শিল্পের শত বছরের ইতিহাসে এমন অসংখ্য সিনেমা রয়েছে, যা ভয়ংকর ও উদ্ভট সব দৃশ্য দেখানোর কারণে সমালোচিত হয়েছে। এমনকি নিষিদ্ধ হয়েছে নিজ দেশে ও দেশের বাইরেও।
নিষিদ্ধ হওয়া এমন সিনেমার তালিকায় রয়েছে ক্যানিবল হলোকাস্ট সিনেমাটি। নিষিদ্ধ হওয়া এই চলচ্চিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।
ক্যানিবলিজমের সাধারণ অর্থ হচ্ছে ‘মানুষের মাংস ভক্ষণের রেওয়াজ’। আরো সহজ করে বলতে গেলে, যারা ক্যানিবল তারা ক্ষুধা নিবারণে আবার কখনো একান্ত ইচ্ছায় আরেকজন মানুষের মাংস খেয়ে থাকে। অন্যদিকে হলোকাস্ট বলতে ‘ব্যাপক হত্যাকাণ্ড’ বোঝায়।
ক্যানিবল হলোকাস্ট সিনেমাটি ১৯৮০ সালে ইতালিতে নির্মিত হয়। পরিচালক ছিলেন রুজিরো দাওদাতো। সিনেমাটিতে ইতালি ও আমেরিকান অভিনেতা ও অভিনেত্রীর সঙ্গে আমাজন বনের একদল আদিবাসী অভিনয় করে। একটি ভূয়া প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিচালক সিনেমাটি নির্মাণ করেন।
১৯৮০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইতালির মিলানে ক্যানিবল হলোকাস্টের প্রথম শো দেখানে হয়। সিনেমাটিতে ক্যানিবলিজম, গণহত্যা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন অতি জঘন্যভাবে দেখানো হয়েছে। সিনেমার দৃশ্যগুলো এতটাই বাস্তবধর্মী ছিল যে অনেকেই মনে করেছিলেন সিনেমার প্রয়োজনে অভিনয়শিল্পীদের সত্যি সত্যি মেরে ফেলা হয়েছে। তবে একথা সত্য যে, সিনেমার দৃশ্যে যে পশুগুলো হত্যা করা হয়েছিল তার সবটাই ছিল বাস্তব। প্রথম শো দেখানোর পরেই ইতালিতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন, তারা সিনেমাটি দেখার পর অসুস্থতা বোধ করছেন। সুতরাং তারা পরিচালকের কাছে ফোন করে অথবা কেউ চিঠি লিখে সিনেমাটির প্রর্দশনী বন্ধ করে দিতে বলেন।
পৃথিবীর প্রায় ৪০টি দেশে নিষিদ্ধ হয় এই সিনেমাটি। সিনেমা শিল্পের ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, এ পর্যন্ত অন্য কোনো সিনেমা এত বেশিবার দেশে নিষিদ্ধ হয়নি। অতিউৎসাহী অনেকেই পরিচালকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ঠুকে দেন। । মামলায় বাদীরা উল্লেখ করেন, পরিচালক সিনেমাটি তৈরির সময় এর অভিনয়শিল্পীদের মেরে ফেলেছেন। অবশ্য এ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে পরিচালককে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। সিনেমার সব অভিনেতা অভিনেত্রীকে আদালতে হাজির করে প্রমাণ করতে হয়েছিল আসলেই তাদের মেরে ফেলা হয়নি।
এত অভিযোগ, সমালোচনা, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সিনেমাটির প্রর্দশনী কিন্তু থেমে থাকেনি। বক্স অফিসে দুর্দান্ত ব্যবসা করেছিল সিনেমাটি। আয় করেছিল প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার। নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি মানুষের যে প্রবল আকর্ষণ রয়েছে, তার এক অনন্য উদাহরণ এই সিনেমা দেখার প্রতি দর্শকদের ঝোঁক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন