শনিবার

আপু ও শুয়ে রইল বাইরে, আর ওর দুই বন্ধু এসে আমাকে …

 

আমরা সব সময় বলে থাকি যে, জীবন থাকলে সমস্যা থাকবে,আর সমস্যা থাকলে উত্তরনের উপায় ও থাকবে,কিছু কিছু সমস্যা প্রকট অবার কিছু সমস্যা সামান্য। তবে সব সমস্যাই সমস্যা, আর এই সব সমস্যা মোকাবেলা করে জীবন কে এগিয়ে নিতে হবে আমি সোমা কামাল সবাইকে এটাই বলে থাকি সব প্রশ্নের উত্তরে। প্রতিদিন আমরা অগণিত মেইল ও মেসেজ পেয়ে থাকি পাঠকের নির্বাচিত কিছু প্রশ্নের উত্তর আমরা দেবার চেষ্টা করি।

ঠিক তেমনি আজকেও আমাদের একজন অসহায় বোনের চিঠি ছোট করে প্রকাশ করে সেটার উত্তর দিচ্ছি..…
আপনিও চাইলে আপনার যেকোন সমস্যার কথা আমাদেরকে মেইল করতে পারেন কিংবা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জানাতে পারেন, আমাদেরকে লেখার ঠিকানা: http://ift.tt/2qpT7JT

 

আপু,
আজ আমি আপনাদের সাথে আমার জীবনের গল্প শেয়ার করবো মানুষকে খুব বেশি বিশ্বাস/ভরসা করলে…অন্যকে কষ্ট দিলে আর বাবা মায়ের কথা না শুনলে হয়ত এমনি হয়, কারন তারা কখনো আমাদের খারাপ চান না তা আমি আমার নিজের জীবন থেকে উপলব্ধি করেছি!

আমার নাম অনন্যা
আমি তখন অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়তাম তিন বছর ধরে তানজিলের সাথে আমার সম্পর্ক চলছিলো ও তখন MBA Complete করে বেকার

আমার বাবা তানজিলকে মোটেও পছন্দ করতেন না তাই আমাদের সম্পর্কটা বাসায় কেউই মেনে নিতে রাজি হয়নি বাবা বলতো, সবাই নাকি বলে ও ভালো ছেলে নয় আমার বাবার বন্ধুর ছেলে আর তানজিল এক সাথে পড়তো তাই বাবা ওকে খুব ভালো করেই চিনতো

সবাই আমাকে অনেক বুঝাতো ওর সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলার জন্য কিন্তু কে শুনে কার কথা, আমি প্রেমে এতই অন্ধ ছিলাম যে আমি সবার অজান্তে ওর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতাম

হঠাৎ একদিন হুট করে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেললো বাসা থেকে আমাকে কিছু না জানিয়েই নিয়ে যাওয়া হল নানুর বাড়ি সেখানে যেয়ে দেখি বিয়ে বাড়ি সাজানো হচ্ছে আমি আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম, কার বিয়ে ??? আম্মু বললো- সময় হলে দেখতে পাবি কার বিয়ে !!!

হলুদের রাতে যখন আমাকে সাজানোর জন্য আর মেহেদি পড়ানোর কাজিন-রা আসলো, তখন বুঝতে পারলাম আমাকে বিয়ে দেয়ার জন্য সবাই চালাকি করে এভাবে নিয়ে এসেছে ওই মুহূর্তে আমার আর কোন রাস্তা খোলা ছিল না পালানোর মত তাই বাধ্য হয়ে মামাতো ভাইকে বিয়ে করলাম , ওর নাম সিয়াম সে আমাকে ছোট বেলা থেকেই খুব পছন্দ করতো!
বাসর রাতে খুব কান্না শুরু করলাম আমি আমার স্বামী আমাকে জিজ্ঞেস করলো আমি কেন কান্না করছি আমি তাকে সব খুলে বললাম তানজিলের ব্যাপারে তাকে এটাও বললাম যে, কোন দিন তাকে আমি ভালবাসতে পারবো না সব সময় আমি তাকে আমার ভাই বলেই ভেবেছি তাই তাকে ভালবাসা বা তার সাথে সংসার করা আমার ধারা সম্ভব না সব শুনে সে বললো, যত দিন না আমি তাকে মন থেকে মেনে নিতে পারছি ততদিন সে আমার কাছে কোন স্বামীর অধিকার ফলাবে না!

তখনো তানজিলের সাথে আমার পুরো যোগাযোগ রয়ে যায় বিয়ের ২২ দিন পর আমি তানজিলের সাথে পালিয়ে যাই, তানজিলই আমাকে বলেছিল, তুমি আমার কাছে চলে আসো আমরা আবার নতুন করে সংসার শুরু করবো!

আমি ওর মিষ্টি কথায় ভুলে আমার স্বামী সিয়ামকে রেখে চলে গেলাম যাবার সময় একটা চিঠিতে সব কিছু লিখে গেলাম সবার কাছে…

ওদিক দিয়ে সবাই আমাকে খোজা শুরু করলো আমরা ঢাকা থেকে চলে গেলাম সিলেটে , তারপর আমরা বিয়ে করে নিলাম সেখানে ওর বন্ধুর বাসায় যেয়ে উঠলাম ২/৩ দিন পর আমার বাসায় আমি ফোন করে জানিয়ে দিলাম আমাকে যেন কেউ অযথা না খুঁজে…আমি আর ফিরবো না!

আমরা একটা বাসা ভাড়া করলাম সেখানেই আরম্ভ করলাম আমাদের নতুন সংসার। ১ মাস পর আমি আমার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিলাম সিয়াম সেদিন আমাকে ফোন করে খুব কান্না করছিলো, আমি তাকে বললাম আমাকে মাফ করে দেয়ার জন্য আর আমাকে ভুলে সেও যেন নতুন করে সংসার সাজিয়ে নেয়।

৩ মাস পর আমার মা আমাকে ফোন দিয়ে জানালো বাবা বলেছে আমাদের বাসায় যেতে, তার মানে সবাই আমাদের মেনে নিয়েছে, ক্ষমা করে দিয়েছে তারপর আমরা বাসায় গেলাম….সবাই ওকে ভালো ভাবেই Accept করলো

বিয়ের ১ বছর যেতে না যেতেই লক্ষ্য করলাম… তানজিল আমার সাথে খুব দুর-ব্যাবহার করে মাঝে মাঝে রাতে বাসায় Drinks করে ফিরে ঝগড়ার সময় গায়েও হাত তোলা শুরু করলো
আমার বাবা-মাও কখনো আমার সাথে এমন করেনি

একদিন রাতে ও ওর দুইটা বন্ধুকে বাসায় নিয়ে আসলো আমাকে বললো, ওরা সবাই আজ রাতে এখানেই থাকবে আর Drinks করবে আমি যেন ওদের ভালো করে আপ্যায়ন করি , ওরা যা বলে তাই তাই যেন করি ওদের মনের সব ইচ্ছে যেন পূরণ করি। ওরা যদি সন্তুষ্ট না হয় তাহলে আমার খবর আছে, আমার কাছে ব্যাপারটা মোটেও সুবিধার লাগছিল না

রাত ১ টার সময় তানজিল ওর দুই বন্ধুকে আমাদের Bed রুমে পাঠিয়ে দিলো আর ও শুয়ে রইল ড্রইং রুমে তারা এসে আমাকে জোর করে যা যা করা দরকার তার সবকিছুই করলো আমি তানজিলকে অনেক ডাকলাম, কিন্তু ও কোন সাড়াই দিলো না আমি বুঝে গেলাম ও এগুলো ইচ্ছে করে করলো সব!

 

 

পরের দিন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ওর সাথে আর নয় আমি আমার নিজের বাসায় ফিরে যেয়ে সবাইকে সব বলে দিবো যে মদ খেয়ে তার বউকে বন্ধুদের হাতে ছেড়ে দেয় সে যে আরো কি কি করতে পারে তা ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছিলো!

যখন আমি চলে যাচ্ছিলাম তখন ও বললো কাল ওর মাথা ঠিক ছিল না তাই ওসব করেছে আমি যেন সব ভুলে যাই আর ওকে ক্ষমা করে দেই আমি তো এই নোংরা ব্যাপারটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না তাই চলে যাবার জেদ ধরে রইলাম।

ওর আবার মাথা গরম হয়ে গেলো…রেগে যেয়ে ও আমার বাম কানে এমন জোরে একটা চড় মারলো যে, সাথে সাথে গমগম করে রক্ত বার হতে লাগলো আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম…আমাকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলো, Treatment এর পর একটু সুস্থ হলাম…কিন্তু কানে খুব বেথা
সেখানে জানতে পারলাম আমি প্রেগন্যান্ট, তিন মাস চলে

বাসায় ফিরে ও আমাকে প্রেসার দিলো বাচ্চা নষ্ট করে ফেলার জন্য বলছে, এখন বাচ্চা আনলে ওটাকে খাওয়াবে কি !!!
আমি অনার্স কমপ্লিট করার পর আর ওর একটা ভালো Job হবার পর যেন বেবি নেই
আমি কিছুতেই রাজি হলাম না…প্রথম সন্তান কেউ কি পারে এভাবে নষ্ট করতে ? আমিতো মা !!!
এক পর্যায়ে খুব ঝগড়া আরম্ভ হয়ে গেল…ও এতই অমানুষে পরিনত হল যে, আমার পেটে লাথি মেরে ও Baby টাকে শেষ করে দিল

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন