রজঃস্রাব (ইংরেজি: Menstruation) বা পিরিয়ড হলো উচ্চতর প্রাইমেট বর্গের স্তন্যপায়ী স্তরী- একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা প্রজননের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতি মাসে পিরিয়ড হয় বলে এটিকে বাংলায় সচরাচর মাসিক বলেও অভিহিত করা হয়।পিরিয়ডের সময় অথ্যাৎ প্রজননের উদ্দেশ্যে নারীর ডিম্বাশয়ে ডিম্বস্ফোটন হয় এবং তা ফ্যালোপিয়ন টিউব দিয়ে জরায়ুতে চলে আসে এবং ৩-৪ দিন অবস্থান করে। এ সময় যদি পুরুষের সঙ্গে যৌনমিলনের মাধ্যমে নারীর জরায়ুতে শুক্র না-আসে এবং এই না-আসার কারণে যদি ডিম্ব নিষিক্ত না হয় তবে তা নষ্ট হয়ে যায় এবং জরায়ুগাত্রের অভ্যন্তরতম সরস স্তর(এন্ডমেট্রিয়াম) ভেঙ্গে পড়ে। এই ভগ্ন ঝিল্লি, সঙ্গের শ্লেষ্মা ও এর রক্ত বাহ থেকে উৎপাদিত রক্তপাত সব মিশে তৈরী তরল এবং তার সংগে এর তঞ্চিত এবং অর্ধ-তঞ্চিত মিশ্রণ কয়েক দিন ধরে লাগাতার যোনিপথে নির্গত হয়। এই ক্ষরণই রজঃস্রাব বা রক্তস্রাব বা পিরিয়ড । কখনো একে হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। যদি নারী জরায়ুতে অবমুক্ত ডিম্বটি পুরুষের স্খলিত শুক্র দ্বারা নিষিক্ত হয়ে এণ্ডোমেট্রিয়ামে প্রোথিত (ইম্প্ল্যান্টেশন) হয় তবে আর রজঃস্রাব বা পিরিয়ড হয় না। তাই মাসিক রজঃস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া নারীর গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে শরীরে বাজে দুর্গন্ধের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। পিরিয়ড চলাকালে এই গন্ধ এতটাই তীব্র হয়ে থাকে যে অনেক নারীর ক্ষেত্রেই ব্যাপারটি মারাত্মক বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়? চলুন, আজ জেনে নিই পিরিয়ডের দুর্গন্ধ দূর করার ব্যাপারে কিছু বিস্তারিত পরামর্শ।
১) পিরিয়ডের সময়ে অন্যান্য সময়ের চাইতে বাড়তি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অপরিহার্য। প্রত্যেকবার প্যাড পরিবর্তনের সময় কুসুম গরম পানি ও একটি কোমল সাবান বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করুন।
২) পিরিয়ডের দুর্গন্ধের সমস্যা থাকলে দিনে দু-বার গোসল করুন, বিশেষ করে গরমের দিনে।
৩) অধিক শোষণক্ষমতা সম্পন্ন সিনথেটিক কোন স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড মোটেও ব্যবহার করবেন না। এসব প্যাডের শোষণ ক্ষমতা উচ্চ হলেও এগুলোর মাঝে জমাট বাঁধা রক্ত বাজে গন্ধ ছড়ায়। সাধারণ তুলোর তৈরি পয়াদ ব্যবহার করুন দুর্গন্ধের সমস্যা থাকলে।
৪) অনেকেই পিরিয়ডের সময় period time গোপন অঙ্গের দুর্গন্ধ ঢাকতে পারফিউম যুক্ত প্যাড ব্যবহার করে থাকেন। এই কাজটিও করবেন না। এই বাড়তি পারফিউমের রাসায়নিক উপাদানের কারণে গোপন অঙ্গের PH লেভেলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, ফলে খারাপ ব্যাকটেরিয়ার গ্রোথ বেড়ে যায়। এতে হরেক রকম ইনফেকশন হবার ও বাজে দুর্গন্ধ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেক গুণ বেশী।
৫) একই কারণেই ওয়েট টিস্যু বা বেবি ওয়াইপসও ব্যবহার করবেন না।
৬) প্রত্যেকবার প্যাড পরিবর্তনের পর হাত ভালো করে ধুয়ে নিন। আপনার প্রিয় পারফিউম ব্যবহার করতেই পারে, তবে সেটা পোশাকে গোপন অঙ্গে বা এর আশেপাশে নয়।
৭) অবশ্যই পিরিয়ডের সময়ে সুতির প্যানটি পরিধান করুন। একই সাথে কোন টাইট পোশাকও পরবেন না। এতে গন্ধ বাড়বে।
৮) পিউবিক হেয়ার পরিষ্কার রাখুন। ঘাম ও রক্ত পিউবিক হেয়ারে জমে গিয়ে বাজে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
১/ পিরিয়ডের সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন প্রচুর সবজি ও ফলমূলের সাথে। খাবার তালিকায় অবশ্যই রাখবেন প্রচুর পানি ও টক দই। এই টক দই গোপন অঙ্গের যে কোন ইনফেকশন প্রতিরোধ করবে ও দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করবে।
২/ খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখুন রসুন। রসুন বিখ্যাত তাঁর অ্যান্টি ফাঙ্গাল গুণাবলীর কারণে।
৩/ কিছু মেথি রাতের বেলা এক কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পানিতি পান করুন ও মেথিগুলো চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।
৪/ চাল ধোয়া পানিও এক্ষেত্রে বেশ উপকারে আসে। গোপন স্থান ধোয়ার জন্য চাল ধোয়া পানি ব্যবহার করতে পারেন।
এই ঘরোয়া উপায়গুলো আপনার পিরিয়ড চলাকালীন during period দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়তা করবে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিচ্ছন্নতা মেনে চলার পরও যদি দুর্গন্ধের সমস্যা রয়েই যায়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন। পিরিয়ডের সময় বাজে দুর্গন্ধ হবার অন্যতম কারণ হতে পারে ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন, যা কেবল একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেই প্রতিকার হওয়া সম্ভব।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন