শুক্রবার

দ্রুত প্রেগন্যান্ট হতে সঙ্গম সম্পর্কিত ৭ টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

 

 

প্রেগন্যান্ট হতে চান? এই অবস্থায় মনে অনেক প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক। যেমন কিভাবে ও কখন সঙ্গম করবেন, কদিন পরপর মিলিত হবেন ইত্যাদি। আজকে আমরা আলোচনা করব প্রেগন্যান্ট  হওয়ার করণীয় সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্মন্ধে।

 

দ্রুত প্রেগন্যান্ট হতে করণীয় যে বিষয়গুলো

১. স্বাস্থ্য পরীক্ষাঃ সন্তানের জন্য চেষ্টা করার আগেই স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েরই একবার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করিয়ে নেওয়া উচিৎ। নিশ্চিত হওয়া উচিৎ যে তাদের কেউই যৌনরোগ কিংবা অন্য কোন রোগে আক্রান্ত নয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে এটাও পরীক্ষা করা জরুরী যে তাদের থাইরয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিক রয়েছে কিনা। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে সেইমত ওষুধ (Medicine) খেতে হবে। এছাড়াও গর্ভবতী / প্রেগন্যান্ট হতে ইচ্ছুক মহিলাদের উপযুক্ত মাত্রায় ভিটামিন সম্মৃদ্ধ আহার গ্রহণ করা উচিৎ। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজন হলে ফোলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট খেতে হতে পারে। প্রেগন্যান্সির চেষ্টা শুরু করার অন্তত একমাস আগে থেকেই এইসব ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

২. পিরিওড সম্মন্ধে সঠিক জ্ঞানঃ মহিলাদের পিরিওডের রক্তক্ষরণ শুরু হবার দিন থেকে গুনে মোটামুটি ১৪ তম দিনে ওভিউলেশন, মানে ডিম্বাণু নির্গমণ হয়। ওটাই গর্ভসঞ্চারের সবথেকে উপযুক্ত সময়। কাজেই প্রেগন্যান্ট হতে হলে ওই সময়ে সঙ্গম করা সব থেকে ভাল। কিন্তু সমস্যা হল যে প্রতি মাসে ঠিক ১৪ তম দিনে ওভিউলেশন নাও হতে পারে। কোন মাসে আগেই ওভিউলেশন হয়ে যেতে পারে আবার কোন মাসে দেরীও হতে পারে। মোটামুটি দেখা গেছে যে পিরিওডের ৯ থেকে ১৯ তম দিনের মধ্যেই সাধারণত ওভিউলেশন হয়। যেহেতু বীর্যস্খলণের পর শুক্রাণু স্ত্রী দেহে মোটামুটি ৩ থেকে পাঁচদিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে, তাই ওভিউলেশনের আগের কয়েকদিন নিয়মিত একদিন পরপর সেক্স করা উচিৎ।

 

ওভিউলেশন ঠিক কবে হয় সেটা বোঝার কয়েকটি উপায় রয়েছে। যেমন ওভিউলেশনের ঠিক আগে মহিলাদের যোনি থেকে যে স্রাব নির্গত হয় তা দেখতে অনেকটা স্বচ্ছ (ডিমের স্বচ্ছ অংশের মত) হয়। অপরপক্ষে ওভিউলেশনের পরে সেই স্রাবের বর্ণ সাদাটে ও অস্বচ্ছ হয়ে যায়। এছাড়াও “ওভিউলেশন প্রেডিকশন কিট (ovulation prediction kit)” বলে এক ধরণের যন্ত্র পাওয়া যায় যা দিয়ে মূত্র পরীক্ষা করে ওভিউলেশন হয়েছে কিনা সেটা বোঝা যায়। পিরিওডের রক্তক্ষরণ শুরুর দিন থেকে গুনে নবম দিন থেকে এই কিট দিয়ে পরীক্ষা শুরু করুন। যেদিন পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসবে, তার ১২ থেকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে সময় প্রেগন্যান্ট হওয়ার জন্য সঙ্গমের সবথেকে উপযুক্ত।

 

৩. নিয়মিত সঙ্গম করুনঃ গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করার জন্য নিয়মিত সঙ্গম করুন। তাই বলে অতিরিক্ত সেক্স করবেন না। তাতে শরীর ও মনে সেক্সের প্রতি অনীহা/ক্লান্তি আসতে পারে যা প্রেগন্যান্টের পথে অন্তরায় হয়। দেখা গেছে যে একদিন বা দুদিন অন্তর অন্তর সঙ্গম করলে গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। চেষ্টা করুন পিরিওডের নবম থেকে ১৯ তম দিন পর্যন্ত একদিন পর পর সঙ্গম করার।

 

৪. সঙ্গমের ভঙ্গিমা বা “পোজ” (position) নিয়ে মাথা ঘামাবেন নাঃ প্রেগন্যান্ট  হওয়ার জন্য সব রকম “পোজ”ই সমান উপযুক্ত। কাজেই যে অবস্থায় বা ভঙ্গিমায় সঙ্গম করলে আপনার ভাল লাগে সেইভাবেই সঙ্গম করুন। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে গর্ভসঞ্চারের জন্য মিশনারী পজিশন এবং ওমেন-অন-টপ পজিশন দুটোই সমান কার্যকরী।

 

 

৫. চিন্তা করবেন নাঃ প্রেগন্যান্ট হওয়ার চেষ্টা শুরুর এক-দু মাসের মধ্যে সফলতা না হলে চিন্তা করবেন না। প্রেগন্যান্ট হতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগা খুবই স্বাভাবিক। তাই দুঃশ্চিন্তা না করে চেষ্টা চালিয়ে যান।

 

৬. সুস্থ জীবন যাপন করুনঃ নিয়মিত সুষম আহার করুন এবং পরিমিত এক্সারসাইজ করুন। লক্ষ্য রাখুন যাতে আপনার ওজন স্বাভাবিক থাকে। তাই বলে মহিলাদের খুব বেশি এক্সারসাইজ করা ঠিক নয়, তাতে পিরিওডে সমস্যা হতে পারে। ধূমপান বন্ধ করুন। মদ্যপানও নিয়ন্ত্রণ করুন। প্রেগন্যান্ট হতে চাইলে মহিলাদের মদ্যপান না করাই শ্রেয়। আর পুরুষদের উচিৎ ঢিলেঢালা অন্তর্বাস ব্যবহার করা, তাতে শুক্রাশয় ঠান্ডা থেকে স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদনে সুবিধে হয়। সঙ্গমের সময় কোন রাসায়নিক লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। নেহাতই প্রয়োজন হলে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

 

৭. ডাক্তারের সাহায্য নিনঃ এক বছরের মধ্যে সাফল্য না এলে উপযুক্ত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। তবে যদি মহিলাদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি হয় সেক্ষেত্রে ৬ মাসের মধ্যে সাফল্য না এলে ডাক্তার দেখানো উচিৎ। মনে রাখবেন অসফলতার জন্য কিন্তু নারী-পুরুষ উভয়েই সমানভাবে দায়ী হতে পারেন।

আশা করছি এই পোস্টের বিষয়বস্তু আপনাদের উপকারে আসবে। Happy baby-making……

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন