আমার বয়স 28। আমার স্ত্রীর বয়স 18। বিয়ে হয়েছে মাত্র 3 মাস 10 দিন। বিয়ের প্রথম থেকে আমি ওকে বড়ি খাওয়াতাম। ও বড়ি ঠিকমত খেতনা প্রায়ই ভুলে যেত। ওর খুব বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, শরীর দুর্বল লাগতো। কিছুদিন পর ওর পরীক্ষা শুরু হলো তাই আমি বড়ি খাওয়ানো বন্ধ করে কনডম ব্যবহার শুরু করি। কনডম ব্যবহারে ফেটে যাওয়ার ভয় আছে। আর শুনলাম যে গর্ভনিরোধক বড়ি নাকি বিয়ের পর 3/4 বছরের বেশি খাওয়ালে গর্ভধারণ করার স্থানে চর্বি জমে যায়। এতে পরবর্তীতে আর গর্ভধারণ করা যায়না। বিয়ের পর কোন পদ্ধতি কিভাবে ব্যবহার করলে কমপক্ষে 5 বছর দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা যাবে অথচ পরে আর গর্ভধারণে সমস্যা হবে না? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
উঃ গর্ভনিরোধক বড়ি দীর্ঘদিন খেলেও তাতে পরবর্তীতে গর্ভবতী হতে কোন অসুবিধা হয়না। আপনি যখন সন্তান চান, তখন বড়ি খাওয়া বন্ধ করে দিলেই হল। ওই বড়ি খেলে জরায়ু্তে (গর্ভধারণের স্থান) চর্বি জমে বা গর্ভবতী হতে কোন অসুবিধা হয় তার কোন প্রমান নেই।
তবে গর্ভনিরোধক বড়ি খেলে PCOS রোগাক্রান্ত মহিলাদের পিরিওড নিয়মিত হতে শুরু করে। (PCOS রোগের একটি প্রধান লক্ষণ হল অনিয়মিত পিরিওড । PCOS রোগ মহিলাদের বন্ধাত্বের একটি কারণ।) যেহেতু গর্ভনিরোধক বড়ি খেলে পিরিওড নিয়মিত হয় তাই এই রোগাক্রান্ত মহিলারা ভাবতে শুরু করেন যে তাদের অসুখ ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে সেটা ঠিক নয়। তাই বড়ি বন্ধ করে যখন এই মহিলারা সন্তানের জন্য চেষ্টা করেন তখন গর্ভসঞ্চারে সমস্যা হয়। এর থেকে অনেকের মনে ধারণা হয় যে গর্ভনিরোধক খাবার ফলেই পরবর্তীতে গর্ভধারণে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু এটা সত্যি নয়। গর্ভনিরোধক বড়ি না খেলেও PCOS রোগের প্রভাবে ওইসকল মহিলার সন্তান পেতে সমস্যা হত। তবে আপনার স্ত্রীর যদি গর্ভনিরোধক বড়ি খেতে অসুবিধা হয় তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ (Medical advice) করুন। বাজারে বেশ কয়েক ধরনের গর্ভনিরোধক বড়ি পাওয়া যায়। তার মধ্যে থেকে হয়তো কোন একটি খেলে আপনার স্ত্রীর কোন অসুবিধা হবেনা।
গর্ভনিরোধক বড়ি ছাড়াও গর্ভরোধ করার আরও নানা পন্থা রয়েছে। তাদের মধ্যে সবথেকে সহজ উপায় কনডম ব্যবহার। অহেতুক কনডম ফেটে যাওয়া নিয়ে ভয় করবেন না । কনডম ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কেবল একসাথে দুটি কনডম কখওনো ব্যবহার করবেন না, ল্যাটেক্স কনডমের সাথে তেল জাতীয় লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করবেন না এবং নিজের সাইজের থেকে অত্যধিক ছোট কনডম ব্যবহার করবেন না। তাহলেই কনডম ফেটে যাবার ভয় অনেক কম থাকবে। আর যদি নেহাতই কালে-ভদ্রে কোনদিন কনডম ফেটেও যায়, তবে তার জন্য তো ইমার্জেন্সী গর্ভনিরোধক বড়ি রয়েছেই। সঙ্গম করার সময় কনডম ফেটে গেলে ওই সঙ্গমের ৭২ ঘন্টার মধ্যেই ইমার্জেন্সি পিল খাওয়াবেন (সহবাসের পর যত তাড়াতাড় খাওয়া যায় ততই ভাল)। এছাড়াও মাসিকের (ব্লিডিং শুরু হবার দিন থেকে গুণতে শুরু করে) প্রথম থেকে সপ্তম দিন এবং ২১ থেকে ২৮ তম দিন পর্যন্ত সঙ্গম কমলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা খুব কম। তবে এই হিসেব যাদের নিয়মিত ২৮ থেকে ৩২ দিনে পিরিওড হয় তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গর্ভধারণের জন্য ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন প্রয়োজন। স্ত্রী যৌনাঙ্গে বীর্যপাতের পর শুক্রাণু ৩ থেকে ৭ দিন বেঁচে থাকতে পারে এবং ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গমনের (ওভিউলেশন) পর তা প্রায় ২৪ ঘন্টা বেঁচে থাকে। তাই নিজে হিসেব করে দেখুন আপনার স্ত্রীর কবে ওভিউলেশন হয়। সেইদিন বা তার আগের সাতদিন বাদ দিয়ে বাকি সময় নিরাপদেই সহবাস করতে পারেন। [বিঃদ্রঃ – ওভিউলেশনের সময় সাধারণত যোনি থেকে স্বচ্ছ ও চিটচিটে স্রাব নির্গত হয়। ওভিউলেশন সাধারণত মাসিকের ব্লিডিং শুরু হবার ১২ থেকে ১৯ তম দিনের মধ্যেই হয়ে থাকে।] গর্ভনিরোধের বিভিন্ন উপায় সম্মন্ধে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের লিঙ্কে দেওয়া পোস্ট দুটি দেখুন। শুভেচ্ছা রইল।
মহিলাদের গর্ভে এক বা একাধিক ভ্রুন ধারণ করাকে গর্ভধারণ এবং গর্ভধারণে এই দশাকে গর্ভাবস্থা বলে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে মানুষের গর্ভধারণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষনা করা হয়েছে। সাধারণত নিষেকের প্রায় ৩৭ সাপ্তাহ পর অথ্যৎ সর্বশেষ নিয়মিত রজঃস্রাবের প্রায় ৪০ সাপ্তাহ পর গর্ভবতি মহিলা সন্তান প্রসব করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুসারে ৩৭ সাপ্তাহ থেকে ৪২ সাপ্তাহ পর সন্তান প্রসব স্বাভাবিক হিসাবে বিবেচিত।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন